কোভিড-১৯ বা
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে গোটাবিশ্ব যেখানে বিপর্যস্ত, বিশ্ব অর্থনীতি যেখানে লকডাউনের শেকলে বন্দী
হয়ে ভঙ্গুর দশায়, সেখানে বাংলাদেশে থেকে আপনি কিভাবে নিজেকে সংক্রমন থেকে রক্ষা
করবেন সে বিষয়ে জানাবো।
প্রথমেই জেনে নিই করোনা ভাইরাস কী?
করোনাভাইরাস,
যার পোশাকি নাম কোভিড-১৯, এই রোগটিকে এখন বিশ্ব মহামারি ঘোষণা করেছে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা World
Health Organization।
ভাইরাসটির আরেক
নাম 2019-nCOV বা নভেল করোনাভাইরাস। এটি এমন একটি সংক্রামক
ভাইরাস - যা এর আগে কখনো মানুষের
মধ্যে ছড়ায়নি।
করোনাভাইরাসের
অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে
মাত্র ছয়টি প্রজাতি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। তবে নতুন ধরণের ভাইরাসের
কারণে সেই সংখ্যা এখন থেকে হবে সাতটি।
২০০২ সাল থেকে
চীনে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া সার্স নামে যে ভাইরাসের সংক্রমণে পৃথিবীতে ৭৭৪ জনের
মৃত্যু হয়েছিল আর ৮০৯৮ জন সংক্রমিত হয়েছিল সেটিও ছিল এক ধরণের করোনাভাইরাস।
নতুন এই রোগটিকে
প্রথমদিকে নানা নামে ডাকা হচ্ছিল, যেমন: 'চায়না ভাইরাস', 'করোনাভাইরাস', '২০১৯ এনকভ', 'নতুন ভাইরাস', 'রহস্য ভাইরাস' ইত্যাদি।
২০২০সালের ফেব্রুয়ারি
মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগটির আনুষ্ঠানিক নাম দেয় কোভিড-১৯
যা 'করোনাভাইরাস
ডিজিজ ২০১৯' -এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
এবার জেনে নিই ভাইরাসটি কিভাবে ছড়ায়?
• সাধারণত আক্রান্ত
ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমেই ভাইরাসটি অন্য জনের শরিরে ছড়ায়,
• শারীরিক ঘনিষ্ঠতা এমনকি হ্যান্ডশেক বা করমর্দন
থেকেও এই রোগ ছড়াতে পারে।
• এছাড়াও রোগীর ব্যবহার করা জিনিস-পত্র থেকেও এই রোগ হতে
পারে।
আসুন জেনে নিই এই রোগের লক্ষণগুলো কি কি?:
যেহেতু ভাইরাসটি
ফুসফুসে আক্রমণ করে সেহেতু রেসপিরেটরি লক্ষণ ছাড়াও জ্বর, কাশি, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ। শুরুর দিকের উপসর্গ সাধারণ সর্দিজ্বর এবং ফ্লু'য়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় রোগ নির্ণয়ের
ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্থ হওয়া স্বাভাবিক। তবে সাধারণত শুষ্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমেই
শুরু হয় উপসর্গ, পরে শ্বাস-প্রশ্বাসে
সমস্যা দেখা দেয়।
সাধারণত রোগের
উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচ দিন সময় নেয়।
বয়স্ক ব্যক্তি
এবং যাদের কোনো ধরণের অসুস্থতা রয়েছে যেমন অ্যাজমা, ডায়বেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ তাদের মারাত্মক অসুস্থ হওয়ার
সম্ভাবনা রয়েছে। সারাবিশ্বে মৃতের সংখ্যা যাচাই করে জানা গেছে, এই রোগে নারীদের চেয়ে পুরুষের মৃত্যুর
সম্ভাবনা সামান্য বেশি।
এবার জানাবো ভাইরাসটি কিভাবে ঠেকানো যেতে পারে?
সম্প্রতি
যুক্তরাষ্ট্র তাদের আবিষ্কৃত একটি টিকা নিয়ে মানুষের দেহে পরীক্ষা চালিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
এই ভ্যাকসিনটি বা এরকম যে আরো
কয়েকটি টিকা এখনও পর্যন্ত গবেষণার পর্যায়ে আছে - তাতে আদৌ কোন কাজ হবে কিনা তা
জানতে আরো অনেক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যাবে।
কাজেই এই রোগ
থেকে এখন পর্যন্ত রক্ষার একমাত্র উপায় হলো অন্যদের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ হতে না
দেয়া এবং আমরা নিজে যাতে আক্রান্ত না হই সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা।
খুব সাধারণ কিছু নিয়ম মানলেই এড়ানো যাবে এই
সংক্রমণ,
- সাবান দিয়ে বারবার হাত ধুতে হবে।
- হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় টিস্যু বা রুমাল দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে ফেলতে হবে।
- হাঁচি-কাশি দেওয়ার পরপরই হাত ধুয়ে ফেলতে হবে।নাক, মুখ ও চোখে হাত স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, এতে এ ধরনের ভাইরাস হাত থেকে শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
- পারতপক্ষে হাঁচি-কাশি বা জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
- ডাক্তার-নার্স কিংবা যারা রোগীর সংস্পর্শে রয়েছেন তাদের রোগীর কাছ থেকে আসার পর ভালো করে হাত ধুতে হবে।
এছাড়াও করোনা
ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
