![]() |
| শীতলক্ষায় সন্ধ্যা |
শীতলক্ষায় সন্ধ্যা
গল্পের মাঝখানে তুমি হঠাৎ থেমে গেলে,
আমি বললাম, তারপর?
তুমি মৃদু হেঁসে বললে, তারপর কি?
আমি অপলক চেয়ে থাকলাম
তোমার শ্যামলা মুখের দিকে।
তারপর কারো মুখে কোনো শব্দ নেই
যেন বোবার দেশের কোনো এক দূত এসে
দূ'জনার ভাষা কেড়ে নিয়ে গিয়েছে।
কিছুক্ষন পরে আমার বাম কাঁধে
তোমর বিনত মাথা অনূভব করলাম,
তোমার হাতখানি শক্ত করে বেঁধে রেখেছে
আমার হাত, যেনো আশ্রয় পেয়েছে আজ।
নিঃস্তব্ধ রাতের মতো নিশ্চুপ হয়ে
চোখ বুজে বসে থাকলে।
তারপর কাকের করুন ডাকে যখন
তুমি চমকে উঠলে, তখন প্রায় সন্ধ্যা।
আমি ডাকলাম, "নন্দিনী.!!"
চোখ তুলে চাইলে তুমি,
কি করুন সে চাহনী, কি নিষ্পাপ সে মুখ,
মায়ামৃগের সবটুকু মায়া বোধহয় তোমার চোখেমুখে,
শীতলক্ষার জলে অস্তমান সূর্য,
তার কিছুটা আভা প্রতিফলিত হয়ে
এসে পড়লো তোমার প্রতিমাতুল্য মুখে।
কে বলবে যে এই মেয়েটাই আজ
নিজের জাত কূল সব বিসর্জন দিয়ে
আমার মতো এক বাউন্ডুলের সাথে
নদীর জলে সূর্যাস্ত দেখছে।
নদীর ওই পাড়ে তোমার বাবার
প্রাচুর্য আর আভিজাত্যে ভরা সভ্য সমাজ,
আর এই পাড়ে চালচুলোহীন আমি।
ওই পাড়ের সবকিছু ফেলে তুমি
এই পাড়ে এই কপর্দকহীন তরুন কবির হাত ধরলে।
মাঝখানে বয়ে চলা শীতলক্ষা নদী।
আমি বলাম "তোমায় রাখবো কোথায়?"
তুমি বললে, "তুমি যেখানে থাকো"
আমি বললাম "বাড্ডার ঐ বস্তিতে?"
মৃদু হেঁসে বললে, "বস্তিতে মানুষ থাকেনা বুঝি?"
তোমায় খাওয়াবো কি?
তুমি বললে, "তোমার কবিতা খাবো সকাল-সন্ধ্যা।"
"পাগলি কোথাকার,কবিতা কেউ খায় নাকি?
কবিতা খেয়ে পেট ভরবে? "
তুমি বললে, "পেট না ভরুক, মন তো ভরবে।"
রাত হলো, এবার চলো,
সংসারটা সাজিয়ে নিই।


Osadaron... =p~
ReplyDeleteঅনেক ধন্যবাদ।
Deleteঅসাধারণ এক কথায়
ReplyDeleteঅনেক ধন্যবাদ, চৌধুরী সাহেব।
Delete