যক্ষায় আক্রান্ত হয়ে মৃত স্ত্রীর লাশ কাঁধে নিয়ে রাস্তায় হেঁটে চলেছেন দানা মাঝি, উদ্দেশ্য ৬০ কিঃমিঃ পথ পাড়ি দিয়ে নিজ গ্রামে পৌঁছাবেন আর তারপর স্ত্রীর সৎকার করবেন। পাশেই কাঁদতে কাঁদতে হাঁটছিল তার ১২ বছরের মেয়ে।
যে মানুষটির সাথে এতোকাল ঘর করেছে, এতোকাল একই বিছানায় শুয়ে থেকেছে,এতোকাল সুখ দুঃখের সাথী হয়েছে আজ তারই লাশ দানা মাঝির কাঁধে। ধর্মমতে , মৃত ব্যক্তির সৎকার দ্রূত সম্পন্ন না করলে পাপ হয়। সেজন্যই হসপিটাল থেকে কোনো সহযোগিতা না পেয়ে এবং অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করবার সামর্থ নেই বলে দানা মাঝি তার চাদর জড়ানো স্ত্রীর লাশ কাঁধে নিয়েই পথে নেমে পড়ে।
হসপিটালে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে যে সহজ মানুষটি রুগ্ন স্ত্রীর সেবা করেছে সেই মানুষটিই আজ বজ্রের মত কঠিন হয়ে স্ত্রীর লাশ কাঁধে নিয়ে পথে নেমেছে, যাতে করে সৎকারের অভাবে প্রিয়তমা স্ত্রীকে নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে না হয়।
পকেট ভর্তি টাকা ছিলোনা দানা মাঝির, কিন্তু বুক ভর্তি ভালোবাসা ছিল স্ত্রীর প্রতি।
হয়তো স্ত্রীর লাশ কাঁধে নিয়ে ব্যথায় বুকটা ফেটে যাচ্ছিল দানা মাঝির। স্ত্রীর লাশটা বুকে জড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছিলো হয়তো তার।
কিন্তু সৎকার করতে বেশি বিলম্ব হলে স্ত্রীকে যে নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে তা কি করে সইবে এই চল্লিশোর্ধ মানুষটি।
পকেট ভর্তি টাকা ছিলোনা দানা মাঝির, কিন্তু বুক ভর্তি ভালোবাসা ছিল স্ত্রীর প্রতি।
হয়তো স্ত্রীর লাশ কাঁধে নিয়ে ব্যথায় বুকটা ফেটে যাচ্ছিল দানা মাঝির। স্ত্রীর লাশটা বুকে জড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছিলো হয়তো তার।
কিন্তু সৎকার করতে বেশি বিলম্ব হলে স্ত্রীকে যে নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে তা কি করে সইবে এই চল্লিশোর্ধ মানুষটি।
বেঁচে থাকতে হয়তো অভাবের তাড়নায় স্নো পাউডার কিংবা একজোড়া কাঁচের চুড়ি অথবা শখ করে একটা সুগন্ধি সাবান স্ত্রীকে কিনে দিতে পারেনি এই মানুষটি।
হয়তো সারাদিন হারভাঙ্গা খাটুনি শেষে ঘরে ফিরে ক্লান্ত শরীরে স্ত্রীর চোখের দিকে চেয়ে "ভালোবাসি" কথাটা কখনো বলা হয়ে উঠেনি তার।
কিন্তু স্ত্রীকে হারাবার পর স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার যে নজির সৃষ্টি করেছেন এই দরিদ্র আদিবাসি মানুষটি তা এই যুগে সত্যিই কল্পনাতীত।
এমন ভালোবাসা পাবার সৌভাগ্য কয়জন নারীর হয় এই যুগে তা সত্যিই ভাববার বিষয়।
আমাং দেই (দানা মাঝির বউ এর নাম) বেঁচে থাকতে তার স্বামীর (দানা মাঝির) ভালোবাসা কতোটুকু অনূভব করেছে তা শুধু সে-ই জানে। কিন্তু মরবার পরে আজ যে ভালোবাসা সে লাভ করলো তা পরপার হতে নিশ্চয় সে অনুভব করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।
কারন দানা মাঝিদের ভালোবাসা এমনই হয়।
হয়তো সারাদিন হারভাঙ্গা খাটুনি শেষে ঘরে ফিরে ক্লান্ত শরীরে স্ত্রীর চোখের দিকে চেয়ে "ভালোবাসি" কথাটা কখনো বলা হয়ে উঠেনি তার।
কিন্তু স্ত্রীকে হারাবার পর স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার যে নজির সৃষ্টি করেছেন এই দরিদ্র আদিবাসি মানুষটি তা এই যুগে সত্যিই কল্পনাতীত।
এমন ভালোবাসা পাবার সৌভাগ্য কয়জন নারীর হয় এই যুগে তা সত্যিই ভাববার বিষয়।
আমাং দেই (দানা মাঝির বউ এর নাম) বেঁচে থাকতে তার স্বামীর (দানা মাঝির) ভালোবাসা কতোটুকু অনূভব করেছে তা শুধু সে-ই জানে। কিন্তু মরবার পরে আজ যে ভালোবাসা সে লাভ করলো তা পরপার হতে নিশ্চয় সে অনুভব করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।
কারন দানা মাঝিদের ভালোবাসা এমনই হয়।
অবশেষে পায়ে হেঁটে ১০ কিঃমিঃ পথ পাড়ি দিয়ে যখন দানা মাঝি মিডিয়া কর্মিদের নজরে পড়েন তখন তারা তাকে একটা অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্হা করে দেন।
রচয়িতাঃ #আহমেদ_খসরু


;-(
ReplyDelete