Breaking Posts

6/trending/recent
Type Here to Get Search Results !

আজ আমার বিয়ে।। রম্য রচনা।। মিয়াহ্ সুম্যান

আজ আমার বিয়ে।। রম্য রচনা।। মিয়াহ্ সুম্যানঅফিসে গেলাম অনেক দেরি করে। পৌছানোর পর বস আমাকে সেই রাম ধোলাই দিয়ে দিলো। বস জানতে চাইলো দেরি কেন হলো। বসকে বললাম আমার মেশিন ভেইল ( জাইঙ্গা) হারিয়ে গিয়েছিলো। মার্কেটে গিয়েছিলাম কিনতে এই জন্য দেরি হয়েছে। বস রেগে আগুন হয়ে বললো আমার সামনে থেকে দূর হও। বুঝতে পারলাম আজকে আমার অনুপস্থিত ধরা হবে। এই লকডাউনের মধ্যে জাইঙার দোকান যে খোলা নেই সেটা কানার ভাই অন্ধও জানে। মেজাজ প্রচন্ড গরম করে বসে আছি। এর মধ্যেই আব্বা কল দিয়ে বসলেন।
-আসসালামু-আলাইকুম আব্বা......!!! কেমন আছেন?
- আছি ভালো। তুমি বাড়ি চলে আসো তাড়াতাড়ি।
-আব্বা, আমার তো অফিস আছে। তাছাড়া অফিস থেকে ছুটিও দিবেনা। লকডাউনে কোথাও যাওয়া যায়না, আসব কি করে?
- সকাল বেলা সব কিছু পাওয়া যায়। ভেঙ্গে ভেঙ্গে চলে আসো।
এই বলেই আব্বা কল টা রেখে দিলেন। আমি পরলাম মহা বিপদে। কান্না কান্না মুখ নিয়ে বসের রুমে গেলাম। গিয়ে বললাম দাদি অসুস্থ। সাথে আব্বার কাছ থেকে আসা কল দেখিয়ে দিলাম। ইনকামিং কলটা দেখে বস একটু নরম হলেন।
-আজকে সহ ৩দিনের ছুটি দিলাম। ছুটি থেকে আসলে পরবর্তী ৩ সপ্তাহের জন্য তোমার সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল। যদি বাড়িতে যেতে পারো তাহলে বাড়ি থেকে আসতেও পারবে। ৩দিন পর অফিস শুরুর ১৫ মিনিট আগে তোমাকে দেখতে চাই। এখন যাও.....
এই বলে বস আমাকে বিদায় দিলেন।
অফিস থেকে বের হয়ে রওনা দিলাম। মহাখালী থেকে অটো করে আসলাম নিকুঞ্জ-২ তে। কাপড় পাল্টে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পরলাম। ছোট ছোট ট্রিপে করে গাজীপুর চৌরাস্তা পৌঁছে গেলাম। তখন দুপুর ১টা বাজে। সেখান থেকে লুকিয়ে একটি রিক্সা নিয়ে আবারও ছোট ছোট ট্রিপে করে বাড়ি পৌঁছে যাই।
বাড়ি পৌঁছেই দেখি বিশাল কান্ড চলছে। দেখে মনে হচ্ছে লকডাউনের হাঙা চলছে। পরে জানতে পেরেছি লকডাউনের না, হাঙ্গা হবে আমার। সেই প্রস্তুতি চলছে। মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরলো। আমি এখনো বিছানায় হিশু করি, আর আমার নাকি বিয়ে, তাও আমাকে না জানিয়ে।
অনেক কষ্ট করে বাড়ি এসেছি তাই ক্লান্ত অনেক, এই জন্য রান্নাঘর থেকে নিজেই খাবার নিয়ে খেয়ে ঘুমিয়ে পরেছি।
বন্ধুর ডাকে ঘুম ভেঙ্গে দেখি সন্ধ্যা ৭ টা বাজে। বন্ধু এসে বললো,--
-তারাতারি রেডি হয়ে নে, গাড়ি চলে এসেছে-
এই বলে আধা মোচড়ানো একটি পাঞ্জাবী আর কারো থেকে চুরি করে আনা একটি পাগড়ী ধরিয়ে দিয়ে গেলো। চোখ মুছতে মুছতে বের হয়ে দেখি বর যাত্রী রেডি। সবাই এতোই ব্যস্ত যে কেউ আমার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় পাচ্ছেনা। শেষ পর্যন্ত কাজী সাহেবকে পেলাম একটি চেয়ারে বসে আছে। সম্পর্কে তিনি আমার দুলাভাই। আমাদের সাথে বর যাত্রী হয়ে যাবে। তার কাছেই জানলাম আজকে আমার বিয়ে এবং রাতেই বিয়ে। কাল মেয়ের সময় নাই, তাই আজকে রাতেই বিয়ে হবে । কাল গুরুত্বপুর্ণ ৩টি সিরিয়াল এর পুণঃপ্রচার হবে তাই কোনভাবেই মেয়ের সময় হবেনা। এই জন্য তাড়াহুড়া করে আজকে রাতেই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। বরযাত্রী এতোটাই ব্যস্ত যে আমাকে আর পাঞ্জাবী পরতে সময় দেয়নি। গাঢ় রঙের গ্যাব প্যান্ট আর রুমমেটের থেকে মেরে দেওয়া হলুদ টি-শার্ট পরেই বিয়ে করতে যাচ্ছি।
পৌঁছানোর পর আমাকে গাড়িতে রেখেই সবাই নেমে পরেছেন। সবাইতো মহা খুশি। কি কি রান্নার আয়োজন করেছেন, কার বাড়ির কি খবর ইত্যাদি নিয়ে সবাই খুবই ব্যস্ত। অনেকক্ষণ একা বসে থাকার পর দেখলাম আমাকে কেউ নিতে আসেনা। এরপর আমি নিজেই গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে বিয়ের আসরে বসলাম। একটু পর ডাক আসলো দুলাভাই থেকে।
-এইদিকে আয়।
-জ্বী দুলাভাই।
-তিনি তোর মামা শশুর। আমার বন্ধু, একসাথে পড়েছি। অনেকদিন পর দেখা। একটি ছবি তুলে দে।
-জ্বী আচ্ছা।
এই বলে তাদের ২ বন্ধুর ২০/২৫ টি ছবি তুলে দিলাম। ফিরে যাওয়ার সময় মামা শশুর বলে উঠলো -
-বাবা ভালো আছো?
- জ্বী ভাইয়া ভালো আছি। বলে আমি আমার আসনে গিয়ে বসলাম।
কিছুক্ষণ পরে শুনতে পাচ্ছি বাড়িতে সেই শুরগোল চলছে। একজনকে জিগ্যেস করতেই বললো, এজিন (কবুল বলানো আর কি) নেওয়ার সময় মেয়ের মামী, ফুফু আর চাচীরা অনেকেই অজ্ঞান হয়ে গেছেন। চিন্তা করলাম হয়তো মেয়ে খুব আদরের ছিলো তাই আবেগে এমন হয়েছে কিন্তু যা শুনেছি তাতে আমার চোখ তো ছানাবড়া। এজিনের সময় ২দল ছিল। একদল বলছে তারাতারি কবুল বলে দাও আবার আরেক দল বলছে না এতো তারাতারি বলা ঠিক হবেনা। এই নিয়ে তারা নিজেরাই মারামারি শুরু করে কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে গেছে।
শেষ পর্যন্ত মেয়ের এজিন নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন বসে আছি আমি কবুল বলার জন্য । অনেকক্ষণ হয়ে গেছে কেউ আসছেনা আমার কাছে এজিন নিতে। নিজেই ঊঠে কাজীদুলাভাই এর কাছে গেলাম। গিয়ে দেখি সবাই মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করছে। দুলাভাইকে বললাম আমারতো এজিন নেওয়া হয়নি তোমরা মোনাজাত করছো কার জন্য। এই কথা শুনে সবাই হা করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো আমার এজিন নিতে তাকে ডেকে আনা হলো। সে তখন সবকিছু বিস্তারিত বললো। যখন আমার এজিন নিতে যাচ্ছিলো তখন তার হাগুর চাপ দেয় আর সেই চাপ সামলাতে চলে যায় তখন দায়িত্ব দিয়ে যায় আরেকজনকে। ২য় বার যাকে দায়িত্ব দিয়েছিল সে এজিন না নিয়েই খাতা জমা দিয়ে আসে কাজীর কাছে।
এইদিকে মেয়ের চাচা বললেন, -মোনাজাত অর্ধেক থামিয়ে ছেলের এজিন শেষ করে নিন। 
আমার সামনে দাঁড়ানো ছিল আমার হবু শশুর। তাকেই উকিল বাবা সাজিয়ে এজিন শুরু করলো। কবুল বলবো কি বলবো না সেটাই ভাবছি এর মধ্যেই কোন এক বুড়ো শয়তান বলে উঠলো আলহামদুলিল্লাহ। কবুল বলার সুযোগই পেলাম না। হুজুর আবারো সেই অর্ধেক মোনাজাত থেকে শুরু করে বিয়ে শেষ করে দিলেন।
এখন সময় হলো মেয়ে বিদায় দেওয়ার। এরমধ্যে আমার বাড়ির কিছু লোক বেশী খেয়ে অজ্ঞান হয়ে পাশের একটি রুমে ঘুমিয়ে পরে আছে। মেয়ের বাবা এইবার উকিল বাবার হাতে মেয়েকে তুলে দিবেন এই মুহুর্তে উকিল বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। আসলে কোন ব্যক্তিকে উকিল বাবা করা হয়েছে কারো মনে পরছেনা।
মেয়ে পক্ষের একজন বলে উঠলো, - কেমন ছোট লোক, উকিল বাবা পালাইছে। সবাইকে বেঁধে ঘরে তালা দিয়ে রাখেন।
এইদিকে আমার পক্ষের অর্ধেক লোককে পাওয়া যাচ্ছেনা। কেউ একজন এসে বললো - "তারাতারি চলো উকিল বাবা নিয়ে ঝগড়া করে সবাইরে মেরে ঘরে তালা দিয়ে রেখেছে।" 
এই বলে আমাকে না নিয়েই আমার অর্ধেক লোক গায়েব।
মেয়ে পক্ষের লোকজন দা-লাঠি নিয়ে আমাদের গ্রামের দিকে যাচ্ছে আমাকে তুলে নিয়ে আসতে কে জানি বলেছে আমি পালিয়ে গেছি। অপরদিকে আমার গ্রামের লোকজন লাঠি কুঠার নিয়ে এগিয়ে আসছে এই গ্রামের দিকে বন্দি লোকদের ফিরিয়ে নিতে। ২ গ্রামের মধ্যে তুমুল ঝগড়া শুরু হয়েগেছে।
মেয়ের বাড়িতে আমি আর মেয়ে ছাড়া আর কেউ নেই। যখন দেখলাম তাকে, তখনই ফিট হয়ে গেলাম। একজন মেয়ে এত সুন্দরী হয় কিভাবে? 
যখন ভাবছি এতো সুন্দর মেয়ে আমি জীবনেও পটাতে পারিনি আর পারবোও না। বউ নিয়ে ঢাকা চলে যায় ভাবতে ভাবতে মনে পরলো আমি তো কবুলই বলিনি । তার মানে আমার বিয়েও হয়নি।
এইদিকে মেয়ে মন্ত্র পড়ছে, কাল আমার সিরিয়াল দেখা না জানি মিস হয়ে যায়। .......................................
বা-বা-বা, বা-না-না-না ....................................
বা-বা-বা, বা-না-না-না ....................................
বা-বা-বা, বা-না-না-না ....................................
---হ্যালো ...!!!
--সুম্যান, ৩০ মিনিট দেরি হয়ে গেছে এখনো অনলাইনে আসোনি। আজকে একটু কাজের প্রেশারে থাকবে। তারাতারি ফ্রেশ হয়ে নাও।
--- জ্বি, ভাইয়া।

Post a Comment

1 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
  1. Anonymous4:46 PM

    osthir golpo.... haste haste sesh ....

    ReplyDelete