জাপান- প্রশান্ত মহাসাগরের একদম পূর্ব কোণে ৬৮০০ টি দ্বীপ নিয়ে গড়ে ওঠা পূর্ব এশিয়ার ছোট্ট একটি দেশ; কিন্তু এই দেশটি নিয়ে পৃথিবীজুড়ে মানুষের বিস্ময়ের সীমা নেই। জাপানকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভূত আর চমৎকার জায়গা। জাপানের সব ভিন্নধর্মী আর বিস্ময়কর আবিষ্কার সবসময়ই চমকে দেয় বিশ্বকে। জাপানের প্রতিটি মানুষই সৃষ্টিশীল। তাদের প্রত্যেকটি কাজে তারা যোগ করে নতুন মাত্রা, নতুন কোন আইডিয়া যা আগে আর কেউ কখনো করে নি। সূর্যোদয়ের দেশ জাপানের এমনই কিছু বিচিত্র মজার তথ্য নিয়ে আজকের এই আয়োজন।
তো চলুন,
শুরু করা
যাক,
জাপান হল পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। জাপানের জনসংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লক্ষ। জনসংখ্যার হিসেবে এটি বিশ্বের ১০ম বৃহত্তম রাষ্ট্র। জাপানের রাজধানী টোকিও, টোকিওতে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৬২০০ জন মানুষ বসবাস করে যার ফলে এই শহরের তাপমাত্রা অন্যান্য শহরের তুলনায় সবসময় ১০ডিগ্রী সেলসিয়াস বেশি থাকে। জাপানি ভাষা জাপানের সরকারি ভাষা। এই ভাষাতে জাপানের প্রায় ৯৮% লোক কথা বলেন।জাপানের প্রধান দুইটি ধর্ম হলো শিন্তো ধর্ম ও বৌদ্ধ ধর্ম।
১। জাপান গুরুত্ব দেয় শৈশবে
জাপানে শিশুদের স্কুলে পড়ালেখার পাশাপাশি আদব-কায়দা শেখানোর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়ে থাকে। গুরুজনদের সম্মান করা, মানুষের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দেওয়া, সবাই মিলে কাজ করা ইত্যাদি শিক্ষা একদম ছেলেবেলায় জাপানিদের মনে গেঁথে দেওয়া হয়। স্কুলে ছাত্র-শিক্ষক নিজেরাই মিলেমিশে একসাথে ক্লাসরুম, ক্যাফেটেরিয়া ইত্যাদি পরিষ্কার করেন, কোন কাজকেই ছোট করে না দেখার অভ্যাস এখান থেকেই গড়ে ওঠে জাপানী শিশুদের।
২। পরিবহন
জাপানের পরিবহন ব্যবস্থা অত্যাধুনিক এবং পরিবহন অবকাঠামো ব্যয়বহুল। জাপানে সড়ক নির্মাণে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়। জাপানে বামহাতি ট্রাফিক পদ্ধতি প্রচলিত। বড় শহরে যাতায়াতের জন্য নির্মিত সড়কসমূহ ব্যবহারের জন্য সাধারণত টোল নেয়া হয়। জাপানের বুলেট ট্রেনের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। বুলেট ট্রেন উচ্চগতি সম্পূর্ণ এক ধরনের আলফা-এক্স প্রযুক্তির বিদ্যুত্চালিত ট্রেন। বুলেট ট্রেনের জন্য জাপান ৫৫ বছর ধরে রেলপ্রযুক্তিতে বিশ্বের শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে। প্রথম দিন থেকে শুরু করে আজ অবধি এই ট্রেন উন্নত থেকে উন্নততর প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হয়েছে।
৩। অতিরিক্ত কাজের চাপে মৃত্যু!
জাপানে শ্রম আইন বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক ভাল। এজন্য কোন কোম্পানি চাইলেই তার কর্মী বিদায় করতে পারে না। এজন্য মোটা অঙ্কের টাকা গুণতে হবে! পৃথিবীর আর যে কোন দেশে অফিসে ঘুমালে মানুষ বসের ঝাড়ি খায়, এমনকি চাকরিও চলে যেতে পারে, কিন্তু একমাত্র জাপানে এই ব্যাপারটিকে উৎসাহিত করা হয়! কেননা সেখানে কাজ ফাঁকি দিয়ে ঘুমাবে এমন মানুষ বলতে গেলে নেই, বরং স্বেচ্ছায় ভয়াবহ খাটুনি করতে গিয়ে মারা পড়ার ঝুঁকি ঢের বেশি, তাই কাজের ফাঁকে একটু ঘুমিয়ে নেওয়ার ব্যাপারটি বলতে গেলে অলিখিত একটি প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে সে দেশে! ব্যাপারটি শুনতে আজব মনে হলেও জাপানের প্রেক্ষাপটে এটি খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা। সেখানে প্রতিবছর গড়ে ১০,০০০ মানুষ মারা যায় শুধুমাত্র অতিরিক্ত কাজের চাপে।
৪।
জাপানে আরো একটি অদ্ভুত নিয়ম আছে। জাপানে মেটাবো ল’ অনুযায়ী নারীদের ওজন বৃদ্ধিতে বিধিনিষেধ আছে। এখানে ৪০ বছর পার হওয়া নারীদের কোমর ৩২ থেকে ৩৬ ইঞ্চির মধ্যে থাকতে হবে। এছাড়া এসব নারী ৬০ কেজির ওপরে ওজন বাড়াতে পারবেন না।
৫। ডাস্টবিনহীন দেশ জাপান!
জাপানের রাস্তায় কোন ডাস্টবিন থাকে না! এমনকি দেশটির কোথাও অন্যান্য দেশের মত বর্জ্যের ভাগাড় পর্যন্ত নেই, কারণ জাপানীরা সবরকম বর্জ্য রিসাইকেল করে ফেলে! যেগুলো রিসাইকেল করা সম্ভব না সেগুলো খুব সুশৃংখল একটি পদ্ধতির মধ্য দিয়ে ধ্বংস করে ফেলা হয়। ধূমপায়ীরা ব্যাগে করে ছাইদানি নিয়ে ঘুরেন, জাপানের রাস্তায় যে সিগারেটের ছাই পর্যন্ত ফেলা নিষিদ্ধ!
৬। ন্যতাইমোরি
জাপানে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে নারীর নগ্ন দেহের উপর খাবার পরিবেশন করা হয় যাকে বলা হয় 'বডি সুশি' বা ন্যতাইমোরি। ঐতিহ্যবাহী ন্যতাইমোরিতে একজন সুন্দরী নারী মডেল টেবিলের উপর নগ্ন হয়ে শুয়ে থাকে এবং তার শরীরে সমতল স্থানে পাতায় উপর মাছের সুশি বসানো হয় যাতে চামড়া থেকে মাছের সংস্পর্শ রোধ করা যায় অতিথিরা মডেলটির সাথে কোনো কথা বলতে, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি বা মন্তব্য করতে পারেনা, শুধু চপস্টিক দিয়ে সুশি তুলে নিতে পারে।

