Breaking Posts

6/trending/recent
Type Here to Get Search Results !

ক্ষুদ্র আমি, পেলাম অনেক বড়।।


ফেসবুকে আমার স্বল্প পরিচিত এক ভদ্রলোক(বড় ভাই) ম্যাসেজ দিয়েছেন "রাজু, তোমার ফোন নাম্বারটা দাও ভাই, তোমার সাথে কিছু কথা আছে।"
ফেসবুকে সচরাচর কারো সাথে আমি চ্যাট করিনা।এর আগে উনার সাথে আমার কখনো কথা হয়নি। অফিস থেকে ফিরে ফেসবুকে উনার ম্যাসেজ দেখে আমার ফোন নাম্বারটা টেক্সট করলাম।
কিছুক্ষন পর ইন্ডিয়ান একটা নাম্বার থেকে ফোন কল পেলাম। ওপাশের ভদ্রলোক নিজের পরিচয় দিয়ে তারপর কান্নাজড়িত কন্ঠে যা জানালেন তার সারমর্ম নিম্নরুপঃ
ইন্ডিয়ার এক নামকরা হসপিটালের বেডে শুয়ে আছেন লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত উনার মৃত্যু পথযাত্রী বাবা। ডাক্তার বলেছেন, কোনোকিছুতেই তাকে আর ৩-৪ মাসের বেশি বাঁচানো যাবে না।
বাবার একমাত্র ছেলে উনি। কৃষক বাবা আজীবন অক্লান্ত পরিশ্রম করে উনাকে ইন্জিনিয়ারিং পড়িয়েছেন, সারাটা জীবন বটগাছের মতো আগলে রেখেছেন। বাবাকে কতোটা ভালোবাসেন তা কখনো বাবার সামনে দাঁড়িয়ে বলা হয়নি উনার। আজ যখন বাবা জীবনের ক্রান্তিলগ্নে এসে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন তখনও বাবাকে জড়িয়ে বলতে পারছেন না যে, "বাবা, তোমাকে অনেক ভালোবাসি, তুমি আমাকে ছেড়ে যেওনা।"
সেই মানুষটা ইন্ডিয়ান হসপিটালে বাবার আই সি ইউ-র পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে ফোনে অনুরোধ করলেন, "ভাই, তোমার লেখার হাত অনেক ভাল, আমার সবকিছুই তুমি শুনলে। বাবাকে কতোটা ভালোবাসি তা কখনো হয়তো বাবাকে মুখে বলতে পারবোনা। তুমি প্লিজ আমার কথাগুলো, বাবাকে কতোটা ভালোবাসি সেই কথাগুলো, আমার আবেগগুলো তোমার ভাষায় লিখে দাও। আমি লেখাটা প্রিন্ট করে বাবার হাতে দিয়ে বাবাকে বুকে জড়িয়ে ধরে একটু কাঁদবো।"
--এই কথাগুলো বলতে বলতে উনি কেঁদে ফেললেন।
উনার আবেগ জড়ানো কথাগুলো শুনতে শুনতে আমারও বাবার কথা মনে পড়লো, কান্নায় দূ'চোখ ঝাপসা হয়ে এলো।
এই পোস্টটা লিখার সময় আবারো আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছি এই ভেবে যে, আমার লিখার প্রতি মানুষের কতোটা ভালোবাসা, কতোটা আস্হা থাকলে মানুষ তার এমন দুঃসময়ে আমার মতো এমন ক্ষুদ্রজনকে তার মুমূর্ষু বাবার জন্য দূ-চার লাইন লিখবার সবিনয় অনুরোধ করে।
সত্যিই আমি ধন্য।
আমি নিশ্চয় লিখবো আপনার বাবার জন্য।
সৃষ্টিকর্তা আপনার বাবাকে সুস্হ করে তুলুক, এই কামনা করি।

Post a Comment

4 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.