Breaking Posts

6/trending/recent
Type Here to Get Search Results !

ও জীবন রে ! ।। আহমেদ খসরু

ও জীবন রে,আহমেদ খসরু, জীবনের গল্প, জীবন কি, মানব জীবন কি, জীবনের সংজ্ঞা কি, জীবনের উদ্দেশ্য কি, বাংলা অনুপ্রেরণার বাণী, নীতি বাণী, শিক্ষামূলক বাণী, বাংলা সাহিত্য
আশে-পাশের দূ-একজন মানুষকে মরতে দেখলেই কেবল তখন আমরা টের পাই যে আমিও বেঁচে আছি।
বস্তা বস্তা কাজের ফর্দ আর দায়িত্বের ভার মাথার উপর, একের পর এক কাজ শুরু করা এবং সেটা সফলভাবে শেষ করা নিয়ে ব্যস্ত আছি আমরা। জীবন ফুরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কাজ বেড়েই চলেছে দিন দিন ।
কিন্তু বেঁচে থাকাটা চাট্টখানি কথা নয়। বেঁচে থাকার মতো এতে সুন্দর, মধুর, অবিশ্বাস্য-আশ্চর্যজনক ও রোমাঞ্চকর ব্যাপার আর কিছু হতে পারেনা। অথচ বেঁচে আছি এই কথাটা ভাববার, এই অকল্পনীয় সুন্দর বিষয়টা অনুভব করবার সময় নেই কারো।
যারা মরে গেছে তাদের কথা একবার ভেবে দেখুন। প্রতিদিন পৃথিবীতে কতো সুন্দর সুন্দর ঘটনা ঘটছে, কতো রহস্য উদঘাটন হচ্ছে, কতো নতুন নতুন আবিষ্কার হচ্ছে, পড়বার মতো খবর তৈরী হচ্ছে কতো.....বেচারা মৃতেরা সবকিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
যাঁরা গতকাল মরে গেছে তাঁরা আজকের এই সুন্দর নতুন সূর্যটাকে দেখতে পেলোনা ভেবে সত্যিই আমার খুব আফসোস হয়।
পৃথিবীটা কতো সুন্দর, কতো বৈচিত্রময়, কতোটা বসবাসযোগ্য তা মানুষ বেঁচে থাকতে ভেবে দেখেনা। আলো বাতাস সহ বেঁচে থাকবার প্রায় সব উপকরণগুলো আমরা বিনামূল্যে পেয়ে থাকি বলে বেঁচে থাকাটা কতো বড়ো একটা বিশেষ ব্যাপার তা আমরা অনুমান করতে পারিনা।
জীবনকে উপভোগ করার আগ্রহ মানুষের আছে, কিন্তু সবচেয়ে বড় ভুল আমরা যা করি তা হলো, টাকা-পয়সাকেই জীবন উপভোগের একমাত্র উপকরণ মনে করি আর টাকা-পয়সা, যশ-প্রতিপত্তির পেছনে ছুটতে গিয়েই পূরো জীবন ব্যয় করি।
জীবনটাকে আমরা মাগনা পাই বলে জীবনকে এমনভাবে অপচয় করতে আমাদের গায়ে লাগেনা।
উপযুক্ত মূল্য চুকিয়ে যদি জীবনকে লাভ করতে হতো তাহলে জীবনের এমন অপব্যবহার ঘটতোনা বলে আমি মনে করি।
যেমন ধরুন, সৃষ্টিকর্তা যদি এমন একটা সিস্টেম চালু করতেন যে, মানুষ জন্মের পর প্রাথমিকভাবে ১০ বছরের একটা ডিফল্ট মেয়াদকাল(জীবন) লাভ করবে। এই ১০ বছর যারা কোনো অন্যায় না করে,অন্যকে বিরক্ত না করে, সুন্দরতর মতো জীবনকে উপভোগ করতে পারবে তারাই কেবলমাত্র পরবর্তি ১০ বছর বাঁচার অনুমতি পাবে কিংবা বাতাস থেকে আমরা যে অক্সিজেন বিনামুল্যে পেয়ে থাকি তা প্রত্যেককেই দূ'বছর পর পর চরম মূল্য চুকিয়ে অটো-রিনিউ করতে হবে, তাহলেই মানুষ বুঝতে পারতো জীবনের একটা মুহূর্তও কতোটা গুরুত্বপূর্ণ, ১০বছরের একটা জীবনও পাওয়া কতোটা কষ্টের, কতোটা সাধনার।
বেঁচে থাকতে,জীবনকে নিজের মতো করে যাপন করতে খুব বেশি কিছুর প্রয়োজন হয় না। যা যা প্রয়োজন হয় তা সৃষ্টিকর্তা আগে থেকেই দিয়ে রেখেছেন। আমরা মানুষরা নিজেদেরকে প্রাণীজগতের শ্রেষ্ঠতম ও সভ্য প্রাণী হিসেবে প্রমাণ করতে গিয়ে দিন দিন জীবনকে দূর্বিষহ করে চলছি আর দিন-রাত অনর্থক খেটে মরছি। মানুষ ছাড়াও পৃথিবীতে আরও হাজার হাজার প্রজাতির জীব আছে। তাদের কারোরই প্রাণী জগতে টিকে থাকবার জন্য অফিস আদালত কিংবা মিল কারখানা গড়ে তুলবার প্রয়োজন হয়নি, সৈন্য-সামন্ত নিয়ে, কামান দাগিয়ে যুদ্ধ করবার প্রয়োজন হয়নি অথচ তারা খেয়ে-দেয়ে, হেঁসে-খেলে দিব্বি বেঁচে আছে শ'য়ে শ'য়ে বছর।
বেঁচে থাকাটা সত্যিই এক অনাবিল আনন্দের বিষয়। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই বেঁচে থাকার আনন্দটাকে উপভোগ করতে পারেনা। উটের জকির মতো জীবনের পিঠে চড়ে মানুষ প্রতিযোগীতায় নেমে পড়ে, অন্যের থেকে পিছিয়ে পড়ছে দেখতেই জীবনের গায়ে সজোরে চাবুকের আঘাত করে, জীবন ছুটে চলে দ্রুত বেগে। অনেক প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি,সফলতা-ব্যর্থতা, চড়াই-উতরাই পেরিয়ে একসময় পৌঁছোয় রেসের শেষ প্রান্তে। জীবন ফুরিয়ে যায়।
কিন্তু এই পথের দূ'পাশে কতো সুন্দর ঝর্ণা ছিল,পাহাড় ছিল, পাখির কুঞ্জন ছিল,ফুলের সৌরভ ছিল, সমুদ্রের ঢেউ ছিল, বাতাসের পরশ ছিল....এসবের কোনোকিছুই উপভোগ করা হয়ে ওঠেনা কারোই।
এতোক্ষন যতো কথা বললাম সবকিছু মিলিয়ে একটা কথাই বোঝাতে চেয়েছি, "এতো সাধের জীবনটাকে বৃথা যেতে দিবেন না, জীবনকে উপভোগ করুন। প্রত্যেকটা ক্ষণ, প্রত্যেকটা মুহূর্ত উপভোগ করুণ, আশেপাশে যারা আছে তাদেরকে নিয়ে উপভোগ করুন।"
কাজ-অকাজ যা করে সুখ পান তাই করুন। বিড়ি-মদ খেয়ে সুখ পেলে তাই করুন। একা থেকে সুখ পেলে একা থাকুন। প্রেম করে সুখ পেলে প্রেম করুন(ছ্যাঁকা খেলে বিমান ছিনতাই করবেন না😜)।
যা ইচ্ছে তাই করুন, শুধু মানুষের ক্ষতি না করে, মানুষকে ধোকা না দিয়ে, কাউকে বিরক্ত না করে, যেমন খুশি জীবনকে ব্যবহার/ উপভোগ করুন।
জীবনের অপব্যয় না করে উপভোগ করুন।
৬-এপ্রিল-২০১৯
উপশহর, রাজশাহী।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.