আমরা বাঙালিরা স্বভাবতই তামাশা দেখার জাতি। কোনো হত্যাকান্ড কিংবা চাঞ্চল্যকর কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা তাকে প্রতিদিনকার বিনোদনের অংশ হিসেবে গ্রহন করে কিছুদিন যাবৎ ফেসবুক, ইউটিউবসহ অন্যান্য সোশ্যাল এবং নিউজ মিডিয়াতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে সারাদেশব্যাপি যথাযথ ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালন করি এবং কিছুদিন পর তা ভুলে গিয়ে নতুন কোনো গরম খবরের অপেক্ষায় থাকি।
অর্থাৎ কোনো হত্যাকান্ড ঘটলে আমরা সোশ্যাল মিডিয়াতে যত চিৎকার-চেঁচামেচি দেখতে পাই তা কেবল জনগণের বিনোদনের ঘাটতি পূরণের খোরাক মাত্র। সিনেমা-নাটক আর টিভি সিরিয়াল দেখে আমাদের বিনোদন সম্পূর্ণ হয়না বলেই এইসব হত্যাকান্ডের নিউজে আমরা বেশ শিহরিত ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি।
প্রকৃতপক্ষে, আমরা কেউই অপরাধীর সর্বোচ্য শাস্তির দাবী নিয়ে অপরাধীকে গ্রেফ্তার এবং শাস্তি প্রদান পর্যন্ত আমাদের চিৎকার-চেঁচামেচিটা বজায় রাখি না কারণ ততদিনে ঘটনাটা আমাদের কাছে পানসে হয়ে যায় এবং আমরা তাতে আর বিনোদন পাই না। কিছুদিন পর জনগনের লাফালাফি বন্ধ হয়ে যায়, সেই ফাঁকে টাকা-পয়সা কিংবা দলীয় ক্ষমতার বলে অপরাধী পার পেয়ে যায় আর ঘটনাটা ধামাচাপা পড়ে যায়।
অর্থাৎ কোনো হত্যাকান্ড ঘটলে আমরা সোশ্যাল মিডিয়াতে যত চিৎকার-চেঁচামেচি দেখতে পাই তা কেবল জনগণের বিনোদনের ঘাটতি পূরণের খোরাক মাত্র। সিনেমা-নাটক আর টিভি সিরিয়াল দেখে আমাদের বিনোদন সম্পূর্ণ হয়না বলেই এইসব হত্যাকান্ডের নিউজে আমরা বেশ শিহরিত ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি।
প্রকৃতপক্ষে, আমরা কেউই অপরাধীর সর্বোচ্য শাস্তির দাবী নিয়ে অপরাধীকে গ্রেফ্তার এবং শাস্তি প্রদান পর্যন্ত আমাদের চিৎকার-চেঁচামেচিটা বজায় রাখি না কারণ ততদিনে ঘটনাটা আমাদের কাছে পানসে হয়ে যায় এবং আমরা তাতে আর বিনোদন পাই না। কিছুদিন পর জনগনের লাফালাফি বন্ধ হয়ে যায়, সেই ফাঁকে টাকা-পয়সা কিংবা দলীয় ক্ষমতার বলে অপরাধী পার পেয়ে যায় আর ঘটনাটা ধামাচাপা পড়ে যায়।
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী, নারায়নগঞ্জের ত্বকী, সাত-খুন, রানা প্লাজা, কুমিল্লার তণু, ফেনীর নুসরাত, ঢাকার বিশ্বজীৎ 'সহ এরকম আরো অসংখ্য হত্যা ও গুমের ঘটনায় এদেশের মিডিয়াতে জনগণের ব্যাপক আন্দোলন দেখেছি এবং কিছুদিন বাদে মানুষকে সবকিছু ভুলে যেতেও দেখেছি। একটিরও সুষ্ঠ বিচার না হওয়া পর্যন্ত মানুষকে আন্দোলন চালিয়ে যেতে দেখিনি।
আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আমি বিশ্বাস করি, কোনো একটি অপরাধের সুষ্ঠ বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা যদি আন্দোলন চালিয়ে যাই তাহলে নিশ্চয় এদেশের বিচার বিভাগ তথা সরকার ঐ অপরাধীকে ধরে এনে শাস্তি দিতে বাধ্য।
কিন্তু আমরা বাঙালিরা হুজুগে গা ভাঁসিয়ে কয়েকদিন হৈ-হুল্লোড় করে তারপর থেমে যাই। হত্যা ও গুমকে আমাদের নিয়তি হিসেবে মেনে নিয়েছি আমরা। আমরা বাঙালি।
আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আমি বিশ্বাস করি, কোনো একটি অপরাধের সুষ্ঠ বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা যদি আন্দোলন চালিয়ে যাই তাহলে নিশ্চয় এদেশের বিচার বিভাগ তথা সরকার ঐ অপরাধীকে ধরে এনে শাস্তি দিতে বাধ্য।
কিন্তু আমরা বাঙালিরা হুজুগে গা ভাঁসিয়ে কয়েকদিন হৈ-হুল্লোড় করে তারপর থেমে যাই। হত্যা ও গুমকে আমাদের নিয়তি হিসেবে মেনে নিয়েছি আমরা। আমরা বাঙালি।
প্রায় ১০০ বছর আগে রবীন্দ্রনাথ আক্ষেপ করে বলেছিলেন,
"সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছো বাঙালি করে, মানুষ করোনি।"
অর্থাৎ আমরা বাঙালি হয়েছি বটে, মানুষ হতে পারিনি।
সেই সাত(৭) কোটি অমানুষের দেশ এখন সতের-(১৭) কোটি অমানুষের দেশে পরিণত হয়েছে। এই দেশে ন্যায় বিচার আশা করাটা হাস্যকর বলে মনে হয় আমার। আমরা যদি মানুষ হতে পারতাম তাহলে বারবার এসব নৃশংস্য-বর্বরোচিত হত্যাকান্ড হতে দিতাম না।
"সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছো বাঙালি করে, মানুষ করোনি।"
অর্থাৎ আমরা বাঙালি হয়েছি বটে, মানুষ হতে পারিনি।
সেই সাত(৭) কোটি অমানুষের দেশ এখন সতের-(১৭) কোটি অমানুষের দেশে পরিণত হয়েছে। এই দেশে ন্যায় বিচার আশা করাটা হাস্যকর বলে মনে হয় আমার। আমরা যদি মানুষ হতে পারতাম তাহলে বারবার এসব নৃশংস্য-বর্বরোচিত হত্যাকান্ড হতে দিতাম না।
আহমেদ খসরু
২৮-জুন-২০১৯
খিলক্ষেত, ঢাকা।

