Breaking Posts

6/trending/recent
Type Here to Get Search Results !

গহিনে ক্ষত ।।গল্প।। পর্ব-২

বাংলা গল্প, গহিনে ক্ষত, আহমেদ খসরু,বাংলা সাহিত্য
বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত ঘেঁষা বরেন্দ্রভূমির ছোট্ট একটা গ্রামে বেড়ে উঠেছিল আরিফ আর সিগমা। গ্রামের চারদিকে বিস্তির্ণ সবুজ মাঠ,ধানক্ষেতের ভিতর দিয়ে সরু মেঠোপথ, মাঠ পেরোলেই উপজেলা শহর ধামুইরহাট। গ্রামের উল্টোদিকে ছোট্ট একটা নদী, নদীর নাম কামিনী।
সদা চঞ্চলা প্রকৃতির মেয়ে সিগমা, অপরদিকে আরিফ অনেকটা ভাব-গম্ভীর প্রকৃতির। সিগমা ধামুইরহাট কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পড়তো আর আরিফ ঢাকার একটা ভার্সিটিতে এমবিএ পড়তো। সম্পর্কে ওরা চাচাতো ভাই-বোন। ছোটবেলা থেকেই সিগমাদের বাড়িতে আরিফের অবাধ বিচরন ছিল। আরিফ খুব ভদ্র ও শান্ত প্রকৃতির ছেলে বলে সিগমার বাবা আরিফকে অনেক স্নেহ করতো। ভার্সিটি বন্ধের সময় আরিফ যখন বাড়িতে এসে থাকতো তখন সময় কাটতোনা বলে সন্ধ্যায় সিগমার ছোট বোনকে পড়াতে যেত ওদের বাড়িতে।
সিগমার সাথে খুব একটা কথা বলতনা আরিফ। পড়াশুনার সময় খুব সিনসিয়ার আরিফ। সিগমা চুপ করে থাকতে পারতনা, মাঝে মাঝে একথা সেকথা বলে আরিফের সাথে গল্প শুরু করে দিত।
আরিফ ধমক দিয়ে বলত,
--নিজের পড়া নেই?আরেকজনকে পড়াচ্ছি আর তুমি তাতে বিরক্ত করছ তাই না?
সিগমা খিল খিল করে হেঁসে উঠত তখন।
ছুটির সময়টা ভালই কাটছিল আরিফের।
একদিন সন্ধ্যায় আরিফ পড়াতে আসলোনা। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলো, আরিফ আসলোনা। সিগমার ভিতরটা কেমন যেন ছটফট করতে লাগল। সিগমা ভেবে পেল না কেন এমন হচ্ছে। ছোটবেলা থেকে যে মানুষটাকে এতকাল দেখে এসেছে সে মানুষটা আজ হঠাৎ আসেনি বলে এমন লাগছে কেন? কৈ!! আগে কখনো তো এমন হয়নি। রাত যত গভীর হল, অভিমান ততো গভীর হল সিগমার হৃদয়ে।
সারারাত ঘুম আসলোনা সিগমার চোখে। সকাল বেলা সিগমা আরিফদের বাড়িতে গিয়ে দেখে আরিফ ওর মায়ের পাশে বসে রান্না করা দেখছে।
সিগমাকে দেখে আরিফের মা বলল,
--ও মা, মন্ডলের বেটি এল যে!!
-- হ্যাঁ কাকীমা, ছেলেকে পেয়ে তো আমাদেরকে ভুলে গিয়েছেন। এই কয়দিনে তো একবারও আমাদের বাড়িতে যাননি তাই আমিই এলাম।
--ভাল করেছিস মা, তোকে একবার ডেকে পাঠাব বলে ভাবছিলাম।
নে, এখন একটু বসে চুলায় জ্বাল দে তো মা... আমি ঘর থেকে তেলের শিশিটা নিয়ে আসি।
নিজের কোনো মেয়ে নেই বলে সিগমাকে অনেক ভালোবাসতেন উনি।
মা চলে গেলে সিগমা জিজ্ঞেস করল,
--কাল পড়াতে আসা হয়নি কেন? 'দিন বাদে সম্পার(সিগমার ছোটবোন) পরীক্ষা তা জাননা বুঝি?
সিগমার কন্ঠে অভিমানের সুর শুনে আরিফের বুঝতে বাঁকি রইলনা যে রাগের কারনটা সম্পার পরীক্ষা নাকি অন্যকিছু।
আরিফ বলল,....
--কাল রাতে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিলাম। তাই যাওয়া হয়নি।
সিগমা আর কিছু বলনা, শুধু বলল, ---"ভাল"।
মা ফিরে আসলে সিগমা কাজ আছে বলে উঠে চলে গেল।
সেদিন সন্ধ্যায় পড়াতে গেল আরিফ। সিগমা উঠে অন্য ঘরে চলে গেল। অন্যান্য দিনে আরিফ পড়াতে আসলে সিগমা তার চুলের বেণী বাঁধা কেমন হয়েছে,আরিফ তার চেয়ে কত বছরের বড়,গ্রামে এসে আরিফের এবার ভাললাগছে কিনা,ঢাকার মানুষগুলো খুব খারাপ নাকি ভাল, ঢাকার কোনো মেয়েকে আরিফের ভাললেগেছে কিনা..... এরকম হাজারো প্রশ্ন করত।
কাল কিছু না বলেই পড়াতে না এসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়ার কথা শুনে এই গ্রাম্য চঞ্চলা কিশোরীর মনে কিসের এত অভিমান জমেছে তা বুঝতে বাঁকি রইল না আরিফের।
গ্রামের সবচেয়ে সুন্দরী,চঞ্চলা,দাম্ভিক মেয়েটি তার মত একজন চুপচাপ-শান্ত প্রকৃতির মানুষের প্রেমে পড়ে ভিতরে ভিতরে ছটফট করে মরছে অথছ মুখ ফুটে বলতে পারছেনা বিষয়টা ভেবে হাসি পেল আরিফের।
পড়া শেষ করে চলে যাবার আগে আরিফ সিগমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে সম্পাকে বলল,
--আচ্ছা সম্পা, কাল বিকেলে নদীর পাড়ে বেড়াতে যাবে আমার সাথে?অনেকদিন হল নদী দেখিনা। নদীর পাড়ে যে বটগাছ আছে ওখানটায় বসবো কিচ্ছুক্ষন।
পরদিন বিকেলে সিগমা এসে আরিফকে বলল,
--আমাকে কিছু কাশফুল এনে দিবে?
আরিফ মুচকি হেঁসে বলল,--হ্যাঁ, কিন্তু সম্পা এলোনা?
--সম্পার গায়ে জ্বর, ও যাবেনা।
--আচ্ছা ঠিক আছে চলো।
শরৎকালে কামিনীর দূ'পাড় যখন সাদা কাশফুলে ছেয়ে প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য ধারণ করেছে ঠিক তখন একটা পড়ন্ত বিকেলে আরিফ একগুচ্ছ কাশফুল এনে সিগমার হাতে তুলে দিয়ে বললো "ভালোবাসি"।
প্রথম প্রেমের শিহরণ,আবেগ,অনুরাগ,অভিমান সবকিছু মিলে-মিশে একাকার হয়ে সিগমার দূ'চোখে জল হয়ে গড়ে পড়তে লাগল।আরিফ সিগমাকে বুকের কাছে টেনে এনে চোখের জল মুছে দিয়ে গালে হাত রেখে,চোখে চোখ রেখে বলল,
--পাগলি কোথাকার, এতো অভিমান করতে হয়??

গল্পের পরবর্তি অংশ পড়ার জন্য ব্লগে নিয়মিত চোখ রাখুন ....

Post a Comment

2 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.