পৃথিবীতে
ভোজনরসিক মানুষের অভাব নেই। কিন্তু এদের মধ্যে আবার অনেকে খাবারের মাঝে দারুণ
রোমাঞ্চ খোঁজেন। বিশেষজ্ঞরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এমন কিছু খাবারের কথা তুলে
ধরেছেন যেগুলো রীতিমতো প্রাণঘাতী। এসব খাবার বহু মানুষের কাছে সুস্বাদু ও জনপ্রিয়।
জীবন বাজি রেখে এগুলো খেয়ে থাকেন ভোজনপ্রিয় মানুষরা। জীবনও দিয়েছেন অনেকে।
১. ফুগু(Fugu):
প্রথমেই এই
অদ্ভুতদর্শন মাছটির কথা না বললেই নয়। পাফারফিশ নামেও সুপরিচিত। জাপানের জনপ্রিয়
একটি খাবার যা উপভোগ করতে জীবনবাজি রাখতে হবে। মাছটি কাঁচা বা ভেজে খাওয়া হয়। এই
মাছের অভ্যন্তরীন প্রত্যঙ্গে রয়েছে টেট্রোডটোক্সিন নামের এক মারাত্মক বিষাক্ত উপাদান।
১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ৪৪ জন প্রাণ খুইয়েছেন এই মাছ খেয়ে। গত বছরই মারা গেছেন
৫ জন।
২. বেলুট(Balut)
আমরা খাই আস্ত
মুরগীর মাংস, অথবা মুরগীর ডিম। কিন্তু ভাবুন তো, এমন একটা ডিম, যার মাঝে মুরগীর বাচ্চা বেড়ে ওঠার পর্যায়ে আছে
অথচ ঠিক মুরগীর মতো চেহারা পায়নি,
সেটা কি কখনো খেতে পারবেন
আপনি? মনে হবে একেবারে ভিনগ্রহের খাবার খাচ্ছেন! অথচ
এটাই মানুষ খায় মজা করে। প্রথমে এর ভেতরে থাকা রস তারা খায় স্ট্র দিয়ে, এরপর ডিমটা ভেঙে ভেতরের মাংসটা খায়। কখনো ফিলিপাইনে গেলে এই খাবারটার ব্যাপারে
সতর্ক থাকবেন অবশ্যই! চিনেও এমন ডিম সিদ্ধ করে খাওয়া হয়, যার মাঝে থাকে হাঁসের ভ্রূণ। হাঁসের নাড়িভুঁড়ি পাখনা সহই চিবিয়ে খায় চীনারা
খুব শখ করে।
৩. সানাকজি(Sannakji):
কোরিয়ার এ
খাবারটি কাঁচা খেতে হলে শুধু চিবাতেই হবে। এটি একটি অক্টোপাস যার শোষকতন্ত্রগুলো
মৃত্যুর পরও দারুণ ক্ষমতাশালী থাকে। প্রতিবছর ৬ জন মানুষের মৃত্যু ঘটে এটি খেতে
গিয়ে।
৪. ব্লাড ক্লামস(Blood Clams):
চীনের শাংহাইয়ে
এটি বোতলজাত অবস্থায় পাওয়া যায়। হেপাটাইটিস এ, ই ছাড়াও টাইফয়েড এবং ডিসেন্ট্রি ঘটানোর নানা
উপাদানে ভরপুর। ১৯৮৮ সালে এটি খেয়ে ৩ লাখ মানুষের প্রাণ যায় যায় অবস্থা হয়। ওই
বছরই মারা যান ৩১ জন।
৫. হাকারি(Hakari):
গ্রিনল্যান্ডের
এই খাবারটিকে হাঙরের শুকটি বলা যেতে পারে। পচা ও শুকনো হাঙরই হাকারি। ছয় মাস ধরে
হাঙরটিকে রেখে দেওয়া হয়। এর পর এর মাংস রুটি দিয়ে খাওয়া হয়। এতে নানা ধরনের বিষ
ছড়িয়ে থাকে যা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
৬. কাজু মারজু (Casu Marzu):
ইতালির জনপ্রিয়
খাবারটি আসলে পচা পনির। মাছিকে অবাধে ডিম পাড়তে দেওয়া হয় এতে। ফলে পনির পচে যায়।
দেহরে খাদ্যনালীতে প্রবেশ করে নানা ধরনের রোগের আগমন ঘটায় খাবারটি।
৭. বুলফ্রগ(Bullfrog) :
নামিবিয়ায় বেশ
জনপ্রিয় খাবার এই ব্যাঙ। এর শুধু পাগুলোই নয়, গোটাটাই খেয়ে
ফেলা হয়। নিরীহদর্শন ব্যাঙের দেহে কয়েক ধরনের বিষ রয়েছে। কম বয়সী ব্যাঙ যারা এখনো
বংশবিস্তারে মিলিত হয়নি, তাদের দেহে রয়েছে শক্তিশালী বিষ। এসব বিষ
মানুষের কিডনি ফেইলুরের ঘটনা ঘটায়।
৮. ফেসিখ(Fesikh):
মিশরের একটি
পচানো মাছ যা দেশটরি বসন্ত উৎসব শেম এল-নেসিম চলাকালে খাওয়া হয়। রোদ্রে শুকিয়ে ও
লবণ প্রয়োগে টানা এক বছর ধরে পচানো হয়। ২০১৯ -২০২০ সালের মধ্যে ৪ জন মানুষ এটি
খেয়ে মারা যান।
৯. সেঞ্চুরি এগ(Century Egg) :
আরেকটি অদ্ভুত
ধরণের ডিম খেয়ে থাকে মানুষ। এই ডিমটাকে সেঞ্চুরি এগ বলা হলেও এটা আসলে ১০ মাস
পর্যন্ত পচানো হয়। এর পর এর থেকে আসতে থাকে বিশ্রী দুর্গন্ধ। এটাকেই কেটেকুটে মজা
করে খায় চীনের মানুষ।
১০. পানগিউম ইডুলে(Pangium Edule):
দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়ায় এটি খাওয়া হয়। এতে আছে মারাত্মক বিষ হাইড্রোজেন সায়ানাইড। এর খোসা ছাড়িয়ে পানিতে
ভিজিয়ে রাখা বা সেদ্ধ করা হয়। আবার কলা পাতার ছাইয়ের মধ্যে ছয় মাস ফেলে রেখে তবেই
খাওয়া হয়।
