আমাদের আশেপাশের
চেনা গন্ডির বাইরেও রয়েছে কিছু বিশেষ রহস্যে ঘেরা জায়গা। এগুলোর অবস্থান প্রাকৃতিক
পরিবেশ নিয়ে লোকমত এবং রহস্যের শেষ নেই।যুগ যুগ ধরে একনিষ্ঠভাবে এই সকল স্থানের
রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করেও আজ পর্যন্ত কোনো কূল-কিনার করতে পারেন নি বিজ্ঞানীরা।এমনকি বর্তমানের আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগেও এই স্থানগুলো তাদের চারপাশে এক
ইন্দ্রজালময় ঘোর বজায় রেখে চলছে।তাই পৃথিবীর এমন কিছু স্থান রয়েছে যেগুলোর
ইতিহাস বা কাহিনী আজও আমাদের কাছে অজানা ও রহস্যময়। প্রিয় দর্শক, আজকের ভিডিওতে আমি বিশ্বের এমন কিছু রহস্যঘেরা
স্থান সম্পর্কে জানাবো যেগুলোর
ব্যাখ্যা আজও বিজ্ঞান দিতে পারেনি ।
১.
আওকিগাহারা জঙ্গল /Aokigahara
Forest:
আওকিঘারা জঙ্গলটি
জাপানের একটি রহস্যময় ভয়ংকর ভূখণ্ড। জাপানের ফুজি পর্বতের পাদদেশে প্রায় সাড়ে ৩
হাজার হেক্টর স্থানজুড়ে অবস্থিত এই জঙ্গলটি। কোঁকড়ানো ও মোচড়ানো গাছ পালায়
পূর্ণ। গোটা এলাকাটি ভূতপ্রেতের অবাধ বিচরণ ভূমি বলে স্থানীয় জনগণের বিশ্বাস।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্থানটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আত্মহত্যার স্থান হিসেবে
পরিচিত। পঞ্চাশের দশক থেকে এ পর্যন্ত ৫ শতাধিক লোক এখানে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু
কেউই জানেনা মানুষ আত্মহত্যার জন্য কেনইবা এই স্থানটিকেই বেছে নেয়।প্রতি বছর এখান
থেকে একাধিক লাশ, দেহাবশেষ উদ্ধার
করে পুলিশ।জঙ্গলের গভীরে গাছ এবং কঙ্কালের ভিড় লেগে রয়েছে বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ।
২. Gates of Hell বা নরকের দরজা:
তুর্কেমেনিস্তানের
ডারভায শহরে কথিত নরকের দরজাটি অবস্থিত। এটি একটি জ্বলন্ত গর্ত।জ্বলন্ত জায়গাটি 'নরকের দরজা' নামে পরিচিত।
১৯৭১ সাল থেকে জায়গাটি একটানা দাউ দাউ করে জ্বলছে। ১৯৭১ সালে এখানে গ্যাস খনির
সন্ধান মেলে।প্রাথমিকভাবে গবেষণা করে বিষাক্ত গ্যাসের ব্যাপারে গবেষকরা নিশ্চিত
হন যার পরিমাণ ছিল সীমিত। সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, এই গ্যাস জ্বালিয়ে শেষ করা হবে ফলে এর
বিষাক্ততা ছড়ানোর সুযোগ পাবে না।এরপর এখানে ২৩০ ফুট চওড়া গর্ত করে আগুন জ্বালিয়ে
দেয়া হয়। কিন্তু গবেষকদের অবাক করে দিয়ে তা এখনও পর্যন্ত অবিরাম জ্বলছে।
৩. বারমুডা
ট্রায়াঙ্গেল:
পৃথিবীর সবচেয়ে
আশ্চর্যজনক স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল।এটা শয়তানের
ত্রিভূজ নামেও পরিচিত।আটলান্টিক মহাসাগরের একটি বিশেষ অঞ্চলে এটি অবস্থিত। যেখান
বেশ কিছু জাহাজ ও বিমান রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেছে। যার রহস্য আজও অজানা। অনেকে
মনে করেন ঐ সকল অন্তর্ধানের কারণ নিছক দুর্ঘটনা। যার কারণ হতে পারে প্রাকৃতিক
দূর্যোগ অথবা চালকের অসাবধানতা। আবার চলতি উপকথা অনুসারে এসবের পেছনে দায়ী হল কোন
অতিপ্রাকৃতিক কোন শক্তি বা বহির্জাগতিক প্রাণের উপস্থিতি।
৪.
ক্যালিফোর্নিয়ার রেসট্র্যাক প্লায়া বা 'চলমান পাথর/ Sliding Stones:
পৃথিবীর আরও একটি
বিস্ময়কারী স্থান হল 'ক্যালিফোর্নিয়ার রেসট্র্যাক প্লায়া' বা 'চলমান পাথর' উপত্যকা।এখানের
পাথরগুলো আপাতদৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে নিজে নিজেই স্থান পরিবর্তন করে। পাথরগুলিকে
চলমান অবস্থায় কেউ কখনো দেখেনি,
তবুও পাতলা কাদার স্তরে থেকে যাওয়া ছাপ থেকে পাথরগুলোর স্থান পরিবর্তন
নিশ্চিত হওয়া যায়। কিছু কিছু পাথরের কয়েকশ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন হয়, এই ভারি ভারি পাথরগুলো কিভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়, সে রহস্য আজও উন্মোচিত হয়নি।
পাথরের ট্রেইলে
রেখে যাওয়া সূক্ষ্ম ছাপ থেকে বোঝা যায় পাথরগুলো এমন সময়ে স্থান পরিবর্তন করে
যখন উপত্যকায় পাতলা কাদামাটির আস্তরণ রয়েছে । মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণীর দ্বারা
পাথরের স্থান পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আশেপাশের কাদায় তাদের কোনো চিহ্ন
পাওয়া যায় না। ক্যালিফোর্নিয়ার Sliding Stones বা চলমান পাথরের এমন বিশ্বয়কর ঘটনাটি বিশেষজ্ঞদের নজরে আসে
১৯৪৮ সালে। বিজ্ঞানীরা আজও পাথরের চলার ভিন্নতার কারণ বা রহস্য উম্মোচন
করতে পারেন নি।
৫. ম্যাকমার্ডো ড্রাই ভ্যালী/ McMurdo Dry Valleys:
অনেকের মতে ‘ম্যাকমার্ডো ড্রাই ভ্যালী’
বিশ্বের সবচেয়ে গোপন জায়গা।এই জনমানবহীন উপত্যকাটি বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্ক
মরুভূমির একটি এবং সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্ক জায়গা।এন্টার্কটিকার বরফ ও
তুষারের মধ্যস্থলে অবস্থিত হলেও প্রতিবছর এখানে মাত্র ৪ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়।
স্থানটি মেরুঅঞ্চলের বরফে ঢাকা থাকার কথা হলেও এটা সম্পূর্ণ বরফশূন্য ও খালি।এখানে কিছু শৈবাল দেখা গেলেও কোন গাছপালা নেই।বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী এই স্থানটির সাথে অদ্ভূত মিল রয়েছে মঙ্গল গ্রহের পরিবেশের।

অনুপ্রেরণা ও সফলতার গল্প, শিক্ষামূলক ছোট গল্প, ইসলামিক ঘটনা, মোটিভেশনাল উক্তি, রহস্য গল্প এবং অবাক করা সব ঘটনা পড়তে ভিজিট করুন অনুপ্রেরণা ডটকম।
ReplyDelete